ব্রাজিলের হারের প্রধান ৫ টি কারণ.....?



কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অথচ এই ম্যাচের আগে থেকে সবাই ধরেই নিয়েছিলেন আবারও শিরোপা পেতে যাচ্ছে ব্রাজিল।

এমনকি আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনারও তেমনটাই বিশ্বাস ছিল। কিন্তু কাসেমিরোর পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলেই সেই স্বপ্নে প্রথম বাধা, যা কাটিয়ে বের হয়ে আসতে পারেনি ব্রাজিল। তারপরও সবদিক থেকে এগিয়ে থেকেও কেন বার বার গোল পোস্টের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেললেন নেইমার-কুতিনহোরা- ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে সেইসবের ময়নাতদন্ত। এতে বেরিয়ে আসছে বেশ কয়েকটি কারণ।

১. থিবাউট কার্টেইজ বাধা: ব্রাজিলের হারের পেছনে যে কারণটা প্রথমে চোখে পড়ছে তা হলো বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউট কার্টেইজের বাধা। ম্যাচে বেলজিয়ামের ৮ আক্রমণের বিপরীতে ব্রাজিলের আক্রমণ ছিল ২৬টি। এর মধ্যে গোল পোস্টে বেলজিয়ামের ৩ শটের বিপরীতে নেইমারদের শট ছিল ৯টি। কিন্তু একটি ছাড়া বাকি সবগুলোই ঠেকিয়ে দিয়েছেন থিবাউট কার্টেইজ। তাই শেষ মুহূর্তে মুহুমুর্হু আক্রমণ করেও গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারেননি নেইমাররা।

 

২. নিষ্প্রভ কুতিনহো: ইনজুরি থেকে ফেরার পর গ্রুপ পর্বে খুব একটা ছন্দে ছিলেন না নেইমার। এই সময়ে ব্রাজিলের প্রাণভোমরা ছিলেন যে কুতিনহো। বেলজিয়ামের ম্যাচে তাকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও ম্যাচের ৭৫ মিনিটে তার দুর্দান্ত পাস থেকেই ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অগাস্তো। কিন্তু আগের ম্যাচগুলোর মতো অতটা উজ্জ্বল কুতিনহোকে কাল দেখা যায়নি। বলও সেভাবে টানতে পারেননি। আবার উল্টো নাগালে পাওয়া একাধিক সুযোগ মিস করেছেন।

৩. ইউরোপিয়ান গতি বনাম লাতিন ছন্দ:আবারো ইউরোপিয়ান গতির কাছে পরাজিত হয়েছে লাতিন ছন্দ। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের গতির সঙ্গে কোনোমতেই পেরে উঠেনি ব্রাজিল। যদিও বেলজিয়ামের মূল স্ট্রাইকার লুকাকুকে এদিন নিষ্প্রভ করে জমাটরক্ষনের যে দাপট সেটা অব্যাহত রাখার দাবি করতেই পারেন থিয়াগো সিলভা ও মিরান্দারা। কিন্তু প্রথমের ওই আত্মঘাতী গোলই সব শেষ করে দেয় ব্রাজিলের। আর পরে মার্সেলো পা না তুললে বলটা তার পায়ে লেগে ফিরে আসতো, ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো না বেলজিয়াম। তাই রক্ষণের ভুল এখানে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আবার  আরেক ডিফেন্ডার ফ্যাগনারকে যেভাবে মেলে ধরতে দেখা যায়নি।

৪. কাসেমিরোর অনুপস্থিতি: দুই হলুদ কার্ডের কারণে এদিন ম্যাচে ছিলেন না কাসেমিরো। যাকে কোচ তিতে ব্রাজিল দলের হৃদপিণ্ড হিসেবে মনে করেন। তার অনুপস্থিতি বেশ ভুগিয়েছে নেইমারদের। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজ হচ্ছে প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো দুমড়ে মুচড়ে ভেস্তে দেয়া। পাশাপাশি রক্ষণভাগের সামনে প্রাচীর হয়ে থাকা। কিন্তু কাসেমিরোর পরিবর্তে মাঠে নামা ফার্নান্দিনহো সেটা তো করতেই পারেননি, উল্টো তারই আত্মঘাতী গোলে প্রথমেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

৫. উইলিয়ান-কস্তা ফ্যাক্ট: বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন কস্তা। আর সেই সময়টুকু তিনি খেলেছিলেন দুর্দান্ত। পরে তার ইনজুরিতে পড়লে কিছুটা হলেও বিপাকে পড়ে ব্রাজিল। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা উইলিয়ানকে কোয়ার্টার ফাইলালে প্রথম একাদশে রাখেন কোচ তিতে। কিন্তু কোচের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি উইলিয়ান। পরে কস্তাকে মাঠে নামায় কোচ। খেলেছেনও দুর্দান্ত। তার মাঠে নামার পর ব্রাজিলের খেলার গতিও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টা এখন এমন মনে হচ্ছে, উইলিয়ানের জায়গায় কস্তাকে আগেই নামালে প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পেতে পারতো ব্রাজিল।
Post a Comment
Powered by Blogger.