আর্জেন্টিনা একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে!

অন্যতম ফেভারিট দল রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে পা রেখেছে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু শনিবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপে নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দর্শক-সমর্থকদের হতাশ করেছেন লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি।

একই সঙ্গে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ এ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ওই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে হতাশা আরও বাড়িয়েছে। দলের এ বিবর্ণ পারফরমেন্সে দুশ্চিন্তায় পড়েছে আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। তাই পরবর্তী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন তিনি। 

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ভিন্ন ভিন্ন ফরমেশনে দলকে খেলিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন চিলির হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ী কোচ সাম্পাওলি। তবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে মাসচেরানোর সঙ্গে লুকাস বিগলিয়াকে খেলানোয় তার রণকৌশল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তাই মস্কোর ব্রনিৎসিতে অনুশীলনে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। মূল একাদশে ফুলব্যাকসহ তিন ডিফেন্ডার খেলানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে তাই আর্জেন্টাইন কোচের ফরমেশন হতে পারে তার পছন্দের ৩-৪-৩ ফরমেশন।

সেক্ষেত্রে ডি মারিয়া, লুকাস বিগলিয়া, মার্কোস রোহো ও ম্যাক্সি মেজা প্রথম একাদশে জায়গা হারাতে পারেন।

আর তা হলে সাম্পাওলির পরবর্তী একাদশে ঢুকবেন ক্রিস্তিয়ান পাভন, মার্কোস আকুনা, গাব্রিয়েল মার্কাদো ও এনজো পেরেজ।

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ডি মারিয়ার বিবর্ণ পারফম্যান্স উল্টোদিকে বদলি হিসেবে নেমে ক্রিস্তিয়ান পাভনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স সাম্পাওলিকে নতুন চিন্তার খোড়াক জুগিয়েছে। পাভনের গতি, বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে কোনাকুনি ঢুকে পড়ার দক্ষতা আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে কার্যকরী অস্ত্র হিসেবে কাজে দেবে বলেই ভাবছেন সাম্পাওলি। এছাড়া একাদশে জায়গা হারাতে পারেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার মার্কোস রোহো।

অন্যদিকে, এদুয়ার্দো সালভিও একাদশে জায়গা ধরে রাখলেও পরবর্তী ম্যাচে রাইটব্যাক নয় তিনি তার নিজের জায়গা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের ডানপাশে খেলবেন। আর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের বাঁপাশে খেলবেন মার্কোস আকুনা, আগেও সাম্পাওলি এই জায়াগাতেই খেলিয়েছেন আকুনাকে।

তবে মিডফিল্ডে মাসচেরানোর সঙ্গী হিসেবে প্রথম ম্যাচে লুকাস বিগলিয়া সবাইকে হতাশ করেছেন। মাঝ মাঠ থেকে দ্রুত বল বাড়ানোয় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। জিওভান্নি লো সেলসো অথবা এভার বানেগাই এই পজিশনের যোগ্য দাবিদার। কিন্তু সাম্পাওলি এনজো পেরেজ ও ম্যাক্সি মেজাকেই অনুশীলনে যাচাই করেছেন। এ দুজনের মধ্যে পার্থক্য হলো পেরেজ আদর্শ বক্স-টু-বক্স খেলোয়াড়, অন্যদিকে মাঝমাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির সঙ্গে আক্রমণ শানাতে দক্ষ। যাকেই খেলানো হোক ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন এক পরীক্ষাই দিতে হবে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে।

আগামী বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
Post a Comment
Powered by Blogger.